শুভেন্দু লায়েক, বাঁকুড়া: জঙ্গলমহলের জেলা জুড়ে সারা বছরই বিরাজ করে হাতির আতঙ্ক। বাঁকুড়া জেলা তার ব্যতিক্রম নয়। অনেক সময় হাতির অবস্থান অস্পষ্ট থেকে যায়। বাঁকুড়া জেলার সোনামুখী জঙ্গল লাগোয়া মানিক বাজার , কওরাশলি , মুশলো , বেলডাঙ্গা , পাথরমোড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষের সারা বছরই কমবেশি হাতির আতঙ্কে রাত কাটাতে হয় । অনেক সময় হাতিকে বাগে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় বনদপ্তরের আধিকারিকদের । আর সেই জন্যই হাতির গতিবিধি সঠিকভাবে নির্ণয় করার জন্য সোনামুখী জঙ্গলে তৈরি করা হয়েছে এই " এলিফ্যান্ট ওয়াচ টাওয়ার " যেখান থেকে সহজেই হাতির গতিবিধি অনুভব করা সম্ভব ।


বাঁকুড়া উত্তর বন বিভাগের আর্থিক সহযোগিতায় এবং সোনামুখী বনদপ্তরের উদ্যোগে সোনামুখী জঙ্গলে এই " এলিফ্যান্ট ওয়াচ টাওয়ার " তৈরি করা হয়েছে । এর ফলে একদিকে যেমন হাতির গতিবিধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে ঠিক তেমনি বেড়েছে সোনামুখী জঙ্গলের সৌন্দর্য । প্রাথমিকভাবে দেখলে মনে হতেই পারে এটা কোনো ছোটখাটো একটা রিসোর্ট । কিন্তু তা নয় এটা একটা "এলিফ্যান্ট ওয়াচ টাওয়ার " । এই সৌন্দর্য দেখতে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষ চলে আসছেন জঙ্গলে । যদিও সোনামুখী বনদপ্তরের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে গভীর জঙ্গলে সাধারণ মানুষ যাতে না আসে । কেননা এতে যেকোনো সময়ে বিপদের আশঙ্কা থাকতে পারে । বনদপ্তরের এই উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সোনামুখী জঙ্গল লাগোয়া বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ । এর ফলে বনদপ্তরের আধিকারিকরা হাতির গতিবিধি সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন এবং লোকালয়ে হাতির অনুপ্রবেশ রুখতে পারবেন বলে আশাবাদী।

আপনার মতামত জানান

পূর্ববর্তী খবর পরবর্তী খবর