নব-দিগন্ত নিউজ ডেস্ক: বর্তমান সমাজে সবাই নিজের স্বার্থের উপর নির্ভর করে বসবাস করে। নিজের স্বার্থের উর্ধে কেউ কারও নয়। কিন্তু এই কঠিন দুনিয়ায় কেউ কেউ আছে যা উল্টো। অন্যের সাহায্যে নিজের সর্বস্ব দিয়ে দেন। তাঁরা ভগবানের দূত, মানুষের রূপ পৃথিবীতে আসেন। জীবিত অবস্থায় তো অবশ্যই, মৃত্যুর পরেও তাঁরা মানুষকে সাহায্য করে যান। এমন একজন উদাহরণ হল কেরলের যুবক অনুজিথ। মাত্র ২৭ বছর বয়সে বাইক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। কিন্তু এই অল্প বয়সেই তিনি কয়েকশো মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে গেছেন। এমনকি মৃত্যুর পরেও তিনি আটজনকে নতুন জীবন দিয়ে গেলেন। 



অনুজিথ কেরলের কোট্টারকারা এলাকায় ১৪ জুলাই বাইক দুর্ঘটনায় আহত হন এবং তাঁকে তিরুবনন্তপুরমে নিয়ে আসা হয় চিকিৎসার জন্য। কিন্তু তিনি ভগবানের প্রিয় হয়ে যান। চিকিৎসকরা অনুজিথের ব্রেন ডেথ ঘোষণা করেন। কিন্তু তিনি মৃত্যুর আগে তাঁর বোন এবং স্ত্রীকে অঙ্গদানের ইচ্ছার কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন। তাই তাঁর শরীরের হৃৎপিণ্ড, কিডনি, অন্ত্র, চোখ, লিভার ও হাত অন্যের শরীরে স্থাপন করা হয়। তাঁর হৃৎপিণ্ড ৫৫ বছরের সানি থমাস নামে একজনের দেহে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এভাবে তিনি না থেকেও থেকে গেলেন অনেকের দেহে, অনেকের মনে। 



২০১০ সালের মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি প্রায় কয়েকশো মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে ছিলেন। তিনি এবং তাঁর বন্ধুরা রেল লাইন ধরে হাঁটছিলেন। সেই সময় তিনি রেললাইনে ফাটল লক্ষ্য করেন এবং ট্রেনও ছুটে আসছিল। সেই সময় তিনি এবং তাঁর বন্ধুরা নিজের জীবন বাজি রেখে রেল লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন এবং পিঠের লাল ব্যাগ খুলে ড্রাইভারের উদেশ্যে ইঙ্গিত দিয়ে ট্রেন থামাতে বলেন। ড্রাইভার বিপদ বুঝে ট্রেন থামিয়ে দেয় এবং অনেক মানুষ বিপদ থেকে রক্ষা পান শুধু মাত্র অনুজিথের জন্য।

আপনার মতামত জানান

পূর্ববর্তী খবর পরবর্তী খবর