বিগত ৬ মাস যাবৎ বিশ্বের তাবড় বিজ্ঞানীমহল নাওয়া-খাওয়া ভুলে করোনার কার্যকরী প্রতিষেধক খুঁজে চলেছেন। শুধু বিজ্ঞানীই নয় এর সঙ্গে তাল মিলিয়েছে অনেক গবেষক, চিকিৎসক এবং সাধারন মানুষ। এই ভাইরাসের ভয়ঙ্কর আক্রমনের জন্য বিশ্বের সব মানুষই এখন নিজেকে ঘর বন্দী করে রেখেছে। এই পর্যন্ত ৪ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯৮৬ জন এই ভাইরাসের কবলে পড়ে প্রাণ ত্যাগ করেছে। আক্রান্ত হয়েছে এর অনেকগুণ বেশি। তবে গত কয়েকদিন থেকে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে একটু-আধটু শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারছে মানব সভ্যতা।
গবেষকদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত মোট ৮২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৮৮৫ জন আক্রান্ত হয়েছে এই মারণ ভাইরাসে। এখান থেকে মৃত্যু হয়েছে ৪ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯৮৬ জনের। তবে বিশ্ববাসীকে আশা দিচ্ছে একটি তালিকা। সেটি হলো করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার বেশি। ‘ওয়ার্ল্ডোমিটার’ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে এখনো পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৩ লক্ষ ৬ হাজার ৭৪৯ জন। এই পরিসংখ্যান থেকে এটা পরিষ্কার বোঝা যায় যে মোট আক্রান্তের তুলনায় ৫২% সুস্থ হয়েছে এবং মোট মৃতের তুলনায় ১০ গুণ বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
ইতিমধ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এমন একটি সহজলভ্য ও সস্তা ওষুধের সন্ধান দিয়েছেন যে ভেন্টিলেশনে থাকা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলবে। সেই বিজ্ঞানীদের দাবি ভেন্টিলেশনে থাকা রোগীকে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি স্টেরয়েড ‘ডেক্সামেথেসোন’ (Dexamethasone) প্রয়োগ করে রোগীর মৃত্যুর হার ৪১% কমিয়ে ফেলবে এই ওষুধ।
এদিকে আবার গত বৃহস্পতিবার থেকে রাশিয়ার হাসপাতালগুলোতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছে রুশ বিজ্ঞানীদের তৈরি করা ওষুধ 'অ্যাভিফ্যাভির'। সেই দেশের বিজ্ঞানীদের দাবি এই ওষুধ প্রয়োগ করা হলে মাত্র চারদিনের মধ্যেই করোনা রোগীকে ৬৫% সুস্থ করে তোলা যাচ্ছে। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে ৯০% করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের শরীর থেকে সম্পূর্ণভাবে ভাইরাস মুক্ত করতে সফল হয়েছে এই ওষুধটি। আরও তিনটি প্রতিষেধক এবং এই দুটি ওষুধ বাজারে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। এর জন্য ফাইনাল পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। যার ফলে এতোটুকু আশা করা যাচ্ছে যে এতদিন পর করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে বিশ্বকে জয় করার থেকে এগিয়ে যাচ্ছে মানব সভ্যতা।

Post a Comment