রাষ্ট্রসংঘ নিজ মুখেই জানিয়েছে যে প্রতিষেধক ছাড়া এই মারণ ভাইরাস করোনাকে রোখা প্রায় অসম্ভব। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করার জন্য প্রায় 100 টি প্রতিষেধক আবিষ্কার করে তার ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এগুলির মধ্যে দুইটির দ্বারা সাফল্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই দুইটি প্রতিষেধক হল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দ্বারা তৈরি টিকা (ChAdOx1 nCoV-19) এবং মোদের্না আরএনএ ভ্যাকসিন (Moderna RNA vaccine)। ইতিমধ্যেই মার্কিন সংস্থা মোদার্নার গবেষকরা দাবি করেছেন যে এই ভ্যাকসিন তাঁদের আটজন স্বেচ্ছাসেবকের উপর প্রয়োগ করার পরে তাঁরা সাফল্য পেয়েছে।



গবেষকরা বলেছেন, করোনা ভাইরাসের জেনেটিককে কাজে লাগিয়ে তাঁরা এই mRNA-1237 ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে যেটি প্রথম দফায় প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাফল্য দিচ্ছে। ওই সংস্থা দাবি করেছে এই ওষুধটি করোনা ভাইরাসকে সরাসরি ধ্বংস না করলেও দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতো পরিমাণ বাড়িয়ে তুলবে যে এই ভাইরাসকে আটকাতে সক্ষম হবে। সংস্থা প্রথম পর্যায়ে সাফল্য পাওয়ায় তাঁরা বেশ কয়েকজনের উপর এই ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করে নিশ্চিত হতে চাইছে। তারপর বানিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে দিবে। তবে তার আগে দ্বিতীয় দফার পরীক্ষা তাঁরা জুলাইয়ের আগে সেরে নিতে চায়। এমনটাই জানানো হয় সংস্থার তরফে।


প্রথম দফার পরীক্ষায় এই ওষুধটির থেকে বেশ কিছু পার্শপ্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। ওষুধের ডোজ বাড়ানোর পরে বমি ভাব, জ্বর, মাথা ব্যথা, পেশীতে ব্যথা, পেটে ব্যথা এসব দেখা গিয়েছিল। কারও কারও ত্বক লাল হয়ে গেছে। তবে এই সব কিছুই ২৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়নি। এই ভ্যাকসিনটি মোট ৩ বার ট্রায়ালের পর বানিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা হবে। 



দ্বিতীয় দফায় ৬০০ জনের উপর পরীক্ষা করা হবে। বিজ্ঞানীরা করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে জিতে যাওয়া মানুষের শরীর থেকে অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করে গবেষণা করে যাচ্ছেন ভাইরাসের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করার জন্য। এই নিয়ে গবেষকরা জানান, করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের শরীর থেকে সংগৃহিত অ্যান্টিবডির চেয়েও অনেক গুন শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরিতে সক্ষম এই mRNA-1237 ওষুধ। যার মাঝারি ডোজের প্রয়োগের ফলেই অনেক ইতিবাচক ফল মিলেছে।

আপনার মতামত জানান

পূর্ববর্তী খবর পরবর্তী খবর