একবিংশ শতাব্দীতে পা রেখে মানবজাতি আজ জল, স্থল, অন্তরীক্ষ সব জায়গাতেই নিজের কতৃত্ব ফলিয়েছে। মানুষের ছোঁয়া আজ সর্বত্র! কিন্তু তবু বদলায়নি বর্ণবৈষম্যের ধারা! হ্যাঁ, আজও কৃষ্নাঙ্গদের ওপর অত্যাচার হয়! তবে পুরোনো সব অত্যাচারের ছবি ম্লান হয়ে যায় কৃষ্নাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড এর মৃত্যুর ঘটনার সামনে।
স্থান মিনেসোটা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। জর্জ ফ্লয়েড নামের এক ব্যক্তির গলায় পা রেখে শ্বাস বন্ধ করে হত্যা করে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার। পুলিশ অফিসারের নাম ডেরে চাওভিন। কৃষ্ণাঙ্গ জর্জের হাত দুটি বেঁধে গলায় পা দিয়ে খুন করে সে৷ রাস্তার উপরে৷ যাতে সে পা না ছুড়তে পারে, তার জন্য গাড়ির নীচে জর্জকে রাখা হয়৷ শুধু মাথা ও ঘাড় বেরিয়ে ছিল বাইরে৷
এই প্রথম নয়, মিনেসোটায় শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্নাঙ্গ বৈষম্য বহু পুরোনো। তবে এবারের ঘটনা ছাপিয়ে যায় সব নৃশংসতাকে। গলায় পা রাখা অবস্থায় একটু বাতাসের জন্য মরিয়া জর্জের আর্ত চিৎকার, "অফিসার… আ আমি শ্বাস নিতে পারছি না। পা টা তুলুন। আপনি কি আমাকে মেরে ফেলতে চাইছেন? শ্বাস নিতে পারছি না!"
না, এরপর আর কথা বলতে পারেনি সে! অবশেষে থেমে যায় জর্জের জীবন। গোটা ঘটনার ভিডিও করে রেখেছিলেন এক ব্যক্তি। বর্তমানে যা ইন্টারনেট জগতের টপ ট্রেন্ডিং টপিক হিসাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে সর্বত্র। ক্ষোভে ফুঁসছে আমেরিকা, ফুঁসছে গোটা বিশ্ব।
জর্জের মৃত্যুর সেই ভিডিও WWE সুপারস্টার দ্য রক (ডোয়েন জনসন) শেয়ার করেছেন তাঁর ইনস্টাগ্রাম পেজে৷ ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জনসন লিখেছেন, "বর্ণবৈষম্য একটি রোগ৷ আমার আশ্চর্য লাগল, চাওভিন যখন এই ভাবে জর্জকে মারছে, তখন ওর সহকর্মীরা কেন ওকে থামাল না৷ এ বার তো পুলিশের উপরও বিশ্বাস চলে যাবে মানুষের৷ জর্জের জন্য আমার মন কাঁদছে৷ ওঁর পরিবারের পাশে আছি৷ এখান থেকেই পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হোক৷"


Post a Comment