মায়ের স্নেহ মমতার কোনো তুলনা হয় না। মায়ের মমতার সঙ্গে তুলনা টানার মতো শব্দ সত্যিই নেই! কিন্তু সবক্ষেত্রে চিত্রটা কিন্তু এক নয়! স্থান, কাল, পাত্র ভেদে মায়ের মমতাতেও ভিন্নতা তাই নজর এড়ায় না! এরকমই এক ভিন্নধর্মী ঘটনা নজরে পড়ল জলপাইগুড়ি টাউন ক্লাব মোড়ে!


ওড়না দিয়ে মুখ ঢাকা এক কিশোরী! করোনা থেকে বাঁচতে এটাই তার সামর্থের মধ্যে থাকা রক্ষাকবচ! পরনে সাদামাটা সালোয়ার। সঙ্গে রয়েছে সাইকেল ও একটি ঝোলা ব্যাগ। টাউন ক্লাব মোড়ে বন্ধ এক দোকানের সামনে বসে কেঁদে চলেছে সে! অশ্রুসজল চোখে পথচারী লোকেদের ডেকে কাজের খোঁজ করছে।


প্রথমটায় গুরুত্ব দেয়নি কেও। কিন্তু পরে স্থানীয়রা নজর করেন ব্যাপারটি। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করায় তার উত্তর, "সৎ মা ভাইকে বেশি আদর করে। আর আমাকে মারধর করে।" তাই অভিমানে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে সে।


কিশোরীর নাম মামণি রায়। ধূপগুড়ির দক্ষিণ খয়েরবাড়ির বাসিন্দা। মা নেই। বাবা বিয়ে করেছেন আবার। মামণি বলে, নিয়মিত মায়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আজ তাই বাড়ি ছেড়েছে সে। দীর্ঘ ৪০ কিমি পথ পারি দিয়ে জলপাইগুড়ি শহরে এসেছে একটা কাজের খোঁজে।


এই বিষয়ে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা তথা সমাজ সেবক নব্যেন্দু সরকার জানান, "আমি টাউন ক্লাবের মোড়ে দেখি একটি মেয়ে কান্নাকাটি করছে ও কাজের খোঁজ করছে। আমার সন্দেহ হওযায় জানতে চাই কী হয়েছে। সে জানায়, সৎ মায়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছে। আমরা চাই, প্রশাসন বিষয়টি দেখুক। যাতে মেয়েটি বাড়ি ফিরতে পারে। মেয়েটির খাওয়ার ব্যবস্থা আমরা করেছি।"

আপনার মতামত জানান

পূর্ববর্তী খবর পরবর্তী খবর