রেড জোন, অরেঞ্জ জোন ও গ্রিন জোন। করোনাভাইরাসে সংক্রমিত এলাকাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেই এলাকায় সংক্রমন বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি সেই এলাকাকে রেড জোন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেই রেড জোনের উপরে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নজরদারি। আর যেই এলাকায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার কিছুটা কম সেই এলাকাকে অরেঞ্জ জোন হিসেবে উল্লেখিত করা হয়েছে। আর গ্রিন জোন হলো বিপদ মুক্ত এলাকা অর্থাৎ যে এলাকায় এখনো করোনা ভাইরাস সেরকম ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গের কোন কোন এলাকাকে এই তিনটি জোনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে? কোন এলাকাকেই বা সংক্রমক এলাকার তালিকায় আনা হয়েছে? সোমবার নবান্নে সেই তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরলেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা।



 এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আপনারা অনেকদিন থেকেই জানতে চাইছিলেন যে এই চারটি জোনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের কোন কোন এলাকাকে রাখা হয়েছে। আগে তার বিস্তারিত তথ্য দেওয়া না হলেও এবার বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো।"



 রেড জোন:- কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর-কে পশ্চিমবঙ্গে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কলকাতায় মোট ২২৭ টি জায়গা কে সংক্রমক এলাকা হিসেবে ধরা হয়েছে। মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা বলেন কলকাতার ২২৭ এলাকার মধ্যে গত ২ সপ্তাহে ১৮ টি এলাকায় নতুন করে কেউ সংক্রমিত হননি। উত্তর ২৪ পরগনার মোট ৫৭ টি জায়গাকে কনটেনমেন্ট জোন হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বিশেষ নজরে রাখা হচ্ছে হাওড়ার মোট ৫৬ টি সংক্রমিত এলাকাকে এবং এই তালিকায় রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের মোট আটটি ব্লক।



 অরেঞ্জ জোন:- অরেঞ্জ জোনের তালিকায় রয়েছে মোট ১১ টি জেলা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, নদীয়া, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মালদা এবং মুর্শিদাবাদ। এই এলাকা গুলিও করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত নয়। তবে এই জেলা গুলিকে খুব তাড়াতাড়ি গ্রিন জোনে পরিণত করার সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন।



 গ্রিন জোন:- গ্রিন জোনের মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মোট আটটি জেলা। যেমন-কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রাম। এই এলাকাগুলি এখনও পর্যন্ত করোনা মুক্ত। তবে আগামী ২১ দিন যে প্রত্যেককেই কড়া সতর্কের মধ্যে থাকতে হবে সেই বার্তাই দিয়েছেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী।

আপনার মতামত জানান

পূর্ববর্তী খবর পরবর্তী খবর