ছবি উৎস : সোশ্যাল মিডিয়া
ঘটনাটা ঘটে ২০১১ সালে। হঠাৎ! ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো-র উপকূলীয় এক ছোট্ট দ্বীপে বাস জোয়াও পেরেইরা ডি'সুজার। নিতান্তই সাদামাটা এক ভদ্রলোক! পেশায় রাজমিস্ত্রি, নেশায় জেলে! ঠিক নেশা বললে বোধ হয় একটু ভুল বলা হয়ে যায়, কিছুটা বাড়তি রোজগারের তাগিদেই মাছ ধরতে হয় তাকে।
২০১১ সালে সেভাবেই একদিন জোয়াও আটলান্টিকে মাছ ধরতে যান। সৈকত থেকে উদ্ধার করেন একটি আহত পেঙ্গুইন। সারা গায়ে তেলের প্রলেপ লেগেছিলো ওই পেঙ্গুইনটির। খসে গিয়েছিলো গায়ের সব পালক। ক্লান্ত সে যেন হারিয়েছিল চলার সব শক্তি। জোয়াও তাকে বাড়ি নিয়ে আসেন।
এরপর চলে পরিচর্যা। এক দুদিন নয়, দীর্ঘ ১১ মাস! নিজের হাতে স্নান করানো থেকে খাওয়ানো, সব কাজই করতেন জোয়াও। এভাবে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠতে থাকে পেঙ্গুইনটি। জোয়াও ভালোবেসে পেঙ্গুইনটির নাম দেন 'ডিমডিম'।
দীর্ঘ ১১ মাস পরিচর্যার পর জোয়াও ডিমডিমকে বহুবার আটলান্টিকে ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মায়ার জাল কেটে বোধ হয় বেরোতে পারেনি ডিমডিম। বার বার তাই ফিরে এসেছে জোয়াও এর কাছে!
ছবি উৎস : সোশ্যাল মিডিয়া
এভাবেই বেশ চলছিল দিন! জোয়াও সমুদ্রে মাছ ধরে কিছু বিক্রি করতেন, আর কিছু রেখে দিতেন ডিমডিম এর জন্য। তা খেয়েই বেশ খুশিতে ছিল ডিমডিম। তবে একদিন হঠাৎ সুন্দর এই সম্পর্কে ছেদ পড়ল। জোয়াও একদিন আবিষ্কার করলেন ডিমডিম আর তার বাড়িতে নেই, সে ফিরে গেছে তার নিজের ঠিকানায়, তার প্রিয়জনদের কাছে।
ডিমডিম তার নিজের বাসায় ফিরে গেছে প্রায় ৪ বছর কেটে গেলো! জোয়াও বুঝলেন সে হয়তো আর ফিরবে না। তবে ভুল ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালের জুলাই, জোয়াও মাছ ধরতে গিয়ে ডিমডিমকে আবিষ্কার করলেন সেই পুরোনো জায়গায়, যেখানে তাকে আহত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিলো ৪ বছর আগে।
এরপর সেই পুরোনো নিয়ম মেনে চলে সময়। জোয়াও তাকে বাড়িতে আনেন, মাছ দেন, দিব্বি কাটে জীবন। তবে না, সারা বছর জোয়াও এর কাছে থাকে না ডিমডিম। জুলাই মাসে সে আসে জোয়াও এর কাছে, থাকে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত, প্রতি বছর। প্রাণীবিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার পথ পারি দিয়ে ডিমডিম এখানে আসে শুধুমাত্র তার মানুষ বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে। এরপর ফেব্রুয়ারির শেষে ফের নিজের বাসায় ফেরে সে।
এই ঘটনা দেখে অবাক তাবড় প্রাণীবিজ্ঞানীরাও। তারা বলছেন, পেঙ্গুইনরা সাধারণত সঙ্গীর প্রতি খুবই বিশ্বস্ত হয়। জোয়াও যেভাবে দীর্ঘ সময় ধরে তার পরিচর্যা করেছেন, তা পেঙ্গুইনটিকে বুঝিয়েছে জোয়াও তার জন্য এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল। ২০১৫ থেকে ২০১৯, নিয়ম মেনে তাই ডিমডিম প্রতিবছর ফিরে এসেছে জোয়াও এর কাছে। ২০২০-র জুলাই মাসেও সে ফিরে আসে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে প্রাণীবিজ্ঞানীরা।


Post a Comment