এই বাংলাতেই সবার আগে পা রেখেছিল ব্রিটিশ বণিকদের দল। পলাশির প্রান্তরে পেয়েছিল তাঁরা দেশ শাসনের আস্বাদ। সেই ব্রিটিশদের সঙ্গেই ছিল প্রায় দুই শতকের বাঙালির ওঠাবসা। দেশের অনান্য রাজ্যের তুলনায় তাই বাংলায় পাশ্চাত্যের প্রভাবটাও বেশ বেশি। মানসিকতার দিক থেকেও বাংলা বেশ এগিয়ে।
তাই বিদ্যাসাগর-রামমোহন-বিবেকানন্দের দেশে লক ডাউনের বাজারে দিন হোক কি রাত বাঙালি মজে আছে নীল ছবিতে। আর তার জেরেই হু হু করে রাজ্যে বেড়েছে ইন্টারনেটের ব্যবহার। বেড়েছে নেট প্যাকেজের চাহিদাও। দেশের অনান্য রাজ্যেও নেট ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু বাংলায় কার্যত তার তিন-চার গুণ বেড়েছে। দিল্লি বা মহারাষ্ট্রে যেটা ৫ থেকে ৬ শতাংশ বেড়েছে, বাংলায় সেটাই বেড়েছে ১৫ শতাংশ। এই তথ্যই দিচ্ছে মোবাইল সংস্থাগুলি। এই তথ্য চোখ কপালে ওঠার জোগাড়।
জানা গিয়েছে দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সময়ে ইন্টারনেটের সবচেয়ে বেশি চাহিদা থেকে টেক সিটিগুলিতে। বেঙ্গালুরু, হয়দরাবাদ, পুণা, গুরগাঁও, চেন্নাই, চন্ডিগড়ে নেটের চাহিদা দিল্লি বা মুম্বইয়ের থেকে বেশিই থাকে। সেখানে কলকাতার স্থান অনেকটাই পিছনে। কিন্তু এই লক ডাউনের বাজারে কিবা কলকাতা কিবা বাংলা দুইয়ে মিলে ছাড়িয়ে গিয়েছে দেশের চাহিদাকেও।
কিন্তু কেন এই বাড়বাড়ন্ত! দেশের নেট পরিষেবা প্রদানকারী মোবাইল সংস্থার বিজনেস হেডরাই এর ভালো একটা ব্যাখা দিয়েছেন। দেশের মানুষ এখন দিনের একটা বড় সময়ই কাটান মোবাইলের সঙ্গে। দক্ষিণ ভারতের মানুষ খুবই সিনেমাপ্রেমী। কিন্তু তাঁরা সেই সিনেমা মোবাইলে দেখতে পছন্দ করেন না। দলবেঁধে তাঁরা তা দেখতে যান হল বা মাল্টিপ্লেক্সে।
তাই দক্ষিণভারতে মোবাইলে সিনেমার দেখার চাহিদা নেই বললেই চলে। আবার সেখানে নেট ওয়েব সিরিজের চাহিদাও সেভাবে নেই। যে টুকু আছে তা শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই দক্ষিণ ভারতে নেটের চাহিদা অফিস কাজ, বাড়িতে বসে পড়াশোনার কাজ আর নীল সিনেমা দেখার জন্য।
আবার উত্তর ভারতে নেটের একটা বড় চাহিদা রয়েছে সিনেমা দেখার জন্য। পাশাপাশি চলে নীল ছবিও। দেখার তালিকাতে থাকে ওয়েব সিরিজও। কিন্তু সেখানে বাড়িতে বা অফিসে নেটের চাহিদা তুলনামূলক ভাবে কম। কিন্তু বাংলাতে অফিসে নেটের চাহিদা যেমন আছে তেমনি আছে বাড়িতে নেটের চাহিদা। তুলনামূলক ভাবে বাংলায় শিক্ষিতের হার বেশি বলে বাড়িতে নেটের চাহিদাও বেশি। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রেও নেটের চাহিদা বাড়ছে বাংলায়।
আবার মোবাইলে সিনেমা দেখার পাশাপাশি, অয়েব সিরিজ দেখা বা নীল ছবি দেখার প্রবণতাও রয়েছে। বাংলার যে সব শ্রমিক, বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা ভিন রাজ্যে কাজ করেন তাঁরা লক ডাউনের এই বাজারে বাড়ি ফিরে এসেছেন। তাই গ্রাম হোক কি শহর মোবাইলে নেটের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে অনেকটাই। আবার তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের অনেকেই এখন বাড়িতে বসে অফিসের কাজ করছেন। তাই সেখানেও বেড়েছে চাহিদা।
সব থেকে বড় কথা বাংলায় হিন্দি, ইংরাজি ও বাংলা ভাষার সিনেমা, ওয়েব সিরিজ দেখার চাহিদাটা খুব বেড়ে গিয়েছে। হইচই, আমাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স, এলটি বালাজি, উল্লু, ভুট প্রভৃতি অনলাইন স্ট্রিমার সংস্থাগুলি এই লকন ডাউনের বাজারেও নিত্য নতুন শো বা সিনেমা হাজির করছে দর্শকদের কাছে। বাড়িতে বসে গোগ্রাসে সে সব গিলছে বাঙালি। আর সব থেকে বেশি বেড়েছে নীল ছবি দেখার চাহিদা। তাতেই কার্যত বাজিমাত করেছে বাংলা। পিছে পড়ে ইন্ডিয়া।

Post a Comment