করোনার থাবায় কার্যত নেতিয়ে পড়েছে বিশ্ব। বিপর্যস্ত সাধারণ জনজীবন। প্রতিষেধক এখনো অধরাই থেকে গেছে। এমন অবস্থায় উঠে এলো নতুন তথ্য।


গবেষণা বলছে, করোনার উপসর্গ প্রকাশের প্রায় ১৮ ঘন্টা আগেই রোগীর শরীরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন! উপসর্গ দেখে যতক্ষণে করোনার আবির্ভাব বোঝা যাবে আসলে তার আগেই করোনা রোগীর শরীরে নিজের থাবা বসিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা রোগীর শরীরে দাপাদাপি করে তবে প্রকাশ করছে উপসর্গ, এমনই বিচিত্র বৈশিষ্টের খোঁজ পেলেন চিকিৎসকরা। এই কারণে সোশ্যাল ডিস্ট্যানসিং এর ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হচ্ছে।


গবেষণায় আরও প্রকাশ, আক্রান্ত হওয়ার ৭ থেকে ৮ দিনের মধ্যে আক্রান্তের শরীরে তৈরী হয় এন্টিবডি, অর্থাৎ শরীরের স্বয়ংক্রিয় রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা। এর পর থেকেই করোনার শক্তি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।


করোনার এই অদ্ভুত আক্রমণ কৌশল দেখে তাই এন্টিবডি এর পরিবর্তে এন্টিজেন টেস্টকেই গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে গবেষণায়। কারণ, শরীরে করোনা প্রবেশের পর শরীরের সেই ভাইরাস চিনে নিয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সময় লাগছে ৬ থেকে ৭ দিন। কিন্তু রোগী সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে প্রথম ৫ দিনের মধ্যে।


আসলে সমস্যাটা কোথায়? রোগীর শরীরে আক্রমণ করার পর ১৮ ঘন্টা কোনো প্রকার উপসর্গ দেখা না দেওয়ায় রোগী নিজেকে সুস্থই ভাবছেন। আর এই সময়ের মধ্যে মেলামেশা করছেন অনেকের সাথেই। তাই রোগের হদিশ পাওয়ার আগেই তার সংস্পর্শে আক্রান্ত হচ্ছেন আরও অনেকেই।


গবেষণাপত্রে আরও প্রকাশ, মোট ৯৪ জন করোনা আক্রান্তের জন্য ৪১৪ বার লালারস পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রথম ২০ দিন আক্রান্তের দেহ থেকে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা প্রবল থাকে। রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা একেবারে নীচে নেমে আসে ৩৭তম দিনের মাথায়। করোনার প্রি-সিম্পেটমাটিক পিরিয়ড বেশ বড়, আর এখানেই প্রধান সমস্যা।

আপনার মতামত জানান

পূর্ববর্তী খবর পরবর্তী খবর