করোনা ভাইরাসকে পরাজিত করে অবশেষে ঘরে ফিরলেন কালিম্পংয়ের মৃত মহিলার পরিবারের বাকি আরও চার সদস্য। পুলিশি নিরাপত্তায় ওই চারজন রবিবার রাতে বাড়িতে ফেরেন। খুবই খুশি ওই চার জনই করোনাকে পরাস্ত করতে পেরে। এদিন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েই চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রত্যেক কর্মী এবং আধিকারিককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সেই চার জন।



এদিন দ্বিতীয় দফায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মৃতার স্বামী, শাশুড়ি, দেওর ও তাঁদের বাড়ির পরিচারিকা। চার জনের মধ্যে মৃতার স্বামী, শাশুড়ি এবং পরিচারিকা ফিরে যাবেন কালিম্পংয়ে। দেওর থাকেন শিলিগুড়ির ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের জ্যোতিনগরে। তাঁকেও কালিম্পংয়ে পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গে থাকতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে, এদিনও প্রধাননগরের নার্সিংহোমটিতে করোনা হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হয়নি। রবিবারও নার্সিংহোমের জটিলতা নিয়ে দফায় দফায় জমায়েত বৈঠক হয়। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, জোর করে যদি করোনা হাসপাতাল তৈরি করার প্রচেষ্টা হয় তবে ফের বিক্ষোভ দেখা যেতে পারে। সেজন্য প্রধাননগরের ভাবনা বদলে শিলিগুড়ির কাছে  কাওয়াখালির নার্সিংহোম অধিগ্রহণ করে করোনা হাসপাতাল তৈরি করার ভাবনা চিন্তা শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। দার্জিলিং জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জানা গেছে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয় কালিম্পংয়ের ওই মহিলার। পরে এক এক করে পরিবারের আরও বাকি  দশ জন তাঁর সংস্পর্শে আসায় সংক্রমিত হয় করোনা ভাইরাসে।



 ১ এপ্রিল থেকে এই দশ জনকে শিলিগুড়ি সংলগ্ন মাটিগাড়ার একটি নার্সিংহোমে রাখা হয়। শনিবার করোনা ভাইরাস মুক্ত হয়ে ঘরে ফিরেছেন মৃতার শ্বশুর, দেওরের স্ত্রী ও তার তিন বছরের শিশু। এরপর বাকি চার জনের শনিবার রাতে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট করোনা নেগেটিভ আসে। ভালো ভাবে নিশ্চিত হতে রবিবার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ‘ভাইরাস রিসার্চ এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে’ আবার সোয়াব টেস্ট করা হলে এই  রিপোর্টও নেগেটিভ আসে। এরপরই স্বাস্থ্য দপ্তর ওই চার জনকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।



এদিন পরিবারের সদস্য বিজয় সিং বলেন, "আমরা পরিবারের এক সদস্যকে হারিয়েছি। সেটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু বাকি পরিবার সেরে উঠছি সেটা ভাল লাগছে। আমরা পুনর্জন্ম পেলাম। চিকিৎসকদের পরামর্শ, সামাজিক দুরত্ব, লক ডাউন অবশ্যই মানা উচিত।"

আপনার মতামত জানান

পূর্ববর্তী খবর পরবর্তী খবর