অভিজিৎ হাজরা, হাওড়া: করোনা এ রাজ্যে জোর থাবা বসিয়েছে। এ রাজ্যে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করোনা আক্রন্তের সংখ্যা ৩৭। মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।রাজ্যের ৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী ইতিমধ্যে করোনা মুক্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। চিকিৎসকরা তাদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।


রাজ্যের স্বাস্হ্য সচিব আগামী ১৪ দিন রাজ্যবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক করেছে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক আধিকারিক,স্বাস্থ্য কর্মী,স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য-সদ্যস্যা, বিভিন্ন ক্লাব-সংগঠনের কর্মী, সদস্য-সদস্যা,সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী-সমথকদের জনগণের পাশে থেকে সমস্ত সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।


করোনায় বাংলায় তৃতীয় জনের মৃত্যুর খবরে জানা যায় হাওড়া জেলা হাসপাতালে সালকিয়ার ৪৮ বছর বয়সী এক মহিলা গত রবিবার রাতে ভর্তি হন। সোমবার সন্ধ্যায় রিপোর্ট আসার আগেই তিনি মারা যান। জানা যায়,ও মহিলা ও তার স্বামী গত ৬ মার্চ ডুয়াস ও উত্তরবঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফিরেছিলেন ২৩    মার্চ। হাওড়া জেলা হাসপাতাল সূত্রে এ মহিলার মৃত্যর কারণ হিসাবে করোনাকে দায়ী করা হয়।


হাওড়া জেলা হাসপাতালে করোনা আক্রান্তের মৃত্যুর খবর প্রকাশ হওয়ার পরই হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের অভিযোগ সোমবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত জেনারেল ওয়ার্ডেই ওই রোগীকে অন্য রোগীদের সঙ্গে রেখে দেওয়া হয়। সোমবার রাতে ঐ রোগী রিপোর্ট আসার আগেই মারা যান। চিকিৎসক ও নার্সদের অভিযোগ করোনা-র সমস্ত উপসর্গ ঐ রোগীর থাকা সত্ত্বেও অন্য রোগীদের মতোই ওই মহিলার শুশ্রূষা করতে বাধ্য হয়েছিলাম।


নার্সরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে বলেছেন, করোনা -র সমস্ত উপসর্গ ঐ রোগীর থাকার জন্য আমরা রোগীর অবস্থা দেখে আমাদের তরফে বারবার আইসোলেশনে ব্যবস্থার দাবি করা হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তথা হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট তাতে পাত্তা দেননি। রোগীর মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে কর্মরত সকল নার্স ও স্বাস্থ্যকমী, চিকিৎসক রা কোয়ারান্টাইনে তাদের রাখার দাবি করেন।তারা অভিযোগ করেন,ঐ রোগীকে অন্যত্র রাখার জন্য, আমাদের সমস্ত রকম প্রোটেকশন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা সত্ত্বেও আমাদের কথার কোনো কর্ণপাত না করে অন্য রোগীদের সঙ্গে ওনাকে রাখা হল। আমাদের কোনো প্রোটেকশন না দিয়ে ঐ রোগীর দেখভাল করতে বাধ্য করা হয়েছে



মৃতার ছেলে জানিয়েছেন,২৩ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মায়ের হাঁচি, কাশি-সর্দির কোনো উপসর্গই  ছিল না। তারপর সামান্য কাশি হয়। রবিবার বেশি হওয়ায় প্রথমে মাকে ঘুসুড়ির সত্যবালা আই,ডি, হাসপাতাল এ নিয়ে যাই। সেখানে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় জয়সওয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। সেখানে রোগীকে রাখার ব্যবস্থা না থাকায় হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। হাওড়া জেলা হাসপাতালে মা-কে নিয়ে আসার পর সাধারণ মেডিসিন ওয়াডে ভর্তি করা হয়। রবিবার রাতে মা-কে ভেন্টিলেশন দেওয়া হয়। সোমবার রাতে মা-য়ের পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। রিপোর্ট পজিটিভ ছিল। রিপোর্ট আসার আগেই সন্ধ্যা বেলায় মা-য়ের মৃত্যু হয়।



এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরাসরি হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে নার্সরা বলেছেন, বিষয়টিকে হালকা ভাবে নিয়ে ছিলেন সুপারিনটেনডেন্ট। এই রোগীর মৃত্যুর পর সকল স্বাস্থ্যকমী নার্সরা কোয়ারান্টাইনে তাদের রাখার জন্য দাবী করতে থাকেন। প্রথমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যকমী ও নার্সদের দাবি কে উপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু স্বাস্থ্যকমী ওনার্সদের দাবি জোরদার আকার ধারণ করলে মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নার্সও স্বাস্থ্যকমীদের দাবি কাযত মেনে নিয়ে মৃতার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ২৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর জন্য জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে লিখিত সুপারিশ পাঠান। হাওড়া জেলা হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট রোগীর সংস্পর্শে আসা আত্মীয়দের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।



করোনা-য় আক্রান্ত ৫ তম রোগীর মৃত্যুর হয় মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। হাওড়া মল্লিকফটক এর ৫৮ বছর বয়সী ঐ ব্যক্তি হাওড়া গোলাবাড়ি আই,এর,এস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। মঙ্গলবার রিপোর্ট আসার আগেই সন্ধ্যায় মারা যান বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

আপনার মতামত জানান

পূর্ববর্তী খবর পরবর্তী খবর