হাওড়ার করোনা 'আক্রান্ত' রোগিণীর চিকিৎসা ও মৃত্যুর ঘটনায়, চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগে এদিন সকালে হাসপাতালে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্মরত নার্সরা। কারণ, করোনার সমস্ত উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও সেই মহিলাকে রবিবার থেকে সাধারণ ওয়ার্ড এ রাখা হয়েছিল । এমনই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে । ফলে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে । ইতিমধ্যেই সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান চিকিৎসক ও নার্সরা । তাদের অভিযোগ, একাধিকবার সতর্ক করা হলেও হাসপাতাল এর তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ।



 জানা যায় , হাওড়ার ওই মহিলা স্বামী, ছেলে, পুত্রবধূ নাতি-সহ মোট ২০ জনের সঙ্গে ডুয়ার্স ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সাত দিন আগে বাড়ি ফেরেন। এরপর ২৬ মার্চ জ্বর আসে ওই মহিলার। সঙ্গে সর্দি ও প্রবল শ্বাসকষ্ট ছিল। প্রথমে তাঁকে ভর্তি করা হয় জয়সওয়াল হাসপাতালে। সেখান থেকে পাঠানো হয় সত্যবালা আইডিতে। উপসর্গ সন্দেহ হওয়ায় সেখান থেকে ওই মহিলাকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে পাঠানোর  নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু বেলেঘাটা আইডিতে না গিয়ে রবিবার মহিলাকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবার। করোনার উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও সাধারণ ওয়ার্ডে রেখে শুরু হয় চিকিৎসা। হাসপাতালের নার্স থেকে শুরু করে চিকিৎসক রা বারবার কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিলেন ,যা যা উপসর্গ দেখা যাচ্ছে তাতে এই মহিলা নোভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। তাই তাঁকে আইসোলেশনে রাখা উচিত । কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো কথাই শোনেননি । অন্যান্য রোগীদের সঙ্গে সেই মহিলাকেও সাধারণ ওয়ার্ড এই রাখা হয়েছিল । পরে সোমবার সকালে নার্স ও চিকিৎসকদের চাপে পড়ে ওই মহিলার নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় এসএসকেএমে।



 রাতে রিপোর্ট হাতে আসার আগেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার । রিপোর্ট মিলতেই জানা যায় করোনা আক্রান্ত ছিলেন তিনি। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন হাসপাতালের নার্সরা।

আপনার মতামত জানান

পূর্ববর্তী খবর পরবর্তী খবর