লাল্টু ভট্টাচার্য, নদীয়া: শিশুরা কোথায় গেলো বলুন তো ? কেউ কি ওদের কোথাও লুকিয়ে রেখেছে ? না কি ওরা খেলতে খেলতে  ক্লান্ত  হয়ে ঘুমিয়ে গেছে মায়ের কোলে ?  মনে হয় ভয় পেয়েছে তাই আর বেরোচ্ছে  না , শান্তিপুর পৌর উদ্যান ফাঁকা , জনশূন্য ;  একটা শিশুকেও দেখা যাচ্ছে না পার্কে দোলনা খেতে ! কিন্তু কোথাও তো রূপকথার গল্পের মতো রাক্ষস রাক্ষুসী বা দানবীয় শক্তির আবির্ভাব ঘটে নি , তাহলে কোথায় গেলো ওরা ? পড়াশুনায় ব্যাস্ত ?
না তো !  তাও নয়!



নজরুল গেয়েছিলেন  "খেলিছ --  এ বিশ্ব লয়ে বিরাজ  শিশু আনমনে খেলিছো।" সংগীতশিল্পী লোপামুদ্রা গেয়েছেন- "ডাকছে আকাশ ডাকছে বাতাস, ডাকছে মাঠের সবুজ ঘাস
ও ছেলেরা খেলা ফেলে শুধুই কেন পড়তে যাস ! "

আগের মতো মাঠে ঘাটে বা এখানে ওখানে শিশুদের খেলতে দেখা না গেলেও বিকাল হলেই কিছু কচি কাচাদের আবির্ভাব ঘটে পার্কে , বাগানে , খেলার মাঠে আবার কেউ সব ছেড়ে বেড়াতে বেরোয় পরিবারের কারোর সাথে। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে, এখন তাদের কাউকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না ! পার্কে ওই দোলনা ,   স্লিপার সবই যেন ওদের জন্য প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে ও গুমরে  গুমরে কাঁদছে প্রকৃতি।


করোনা নামক এক অদৃশ্য শক্তির সাথে ক্রমবর্ধমান গতিতে লড়াই চলছে ; ক্রমশ চড়ছে পারদ। করোনার আতঙ্কে  লক ডাউন চলছে। বন্ধ দোকান , বাজার , পৌর শিশু উদ্যান , বন্ধ রবীন্দ্র কানন। সেখানেও আড্ডা বন্ধ সাধারণ মানুষের।


কিন্তু সারাক্ষন বাড়িতে থাকলে পিতা মাতার পারিবারিক কলহে লিপ্ত হয়ে পড়বে যে ওরা !  আবার ফেসবুক , হোয়াটস্যাপ , টুইটার এসবের ফাঁদে পা দিলে তো এখনই শিশু মনে আঘাত লাগবে ! তাহলে সারাদিন কি সিনেমা দেখবে ? না , না , একেবারেই নয় ? তাহলে পড়াশুনা করুক ;  সেটা কি সারাদিন ব্যাপী করা যায় ?

সত্যিই ওদের প্রচুর কষ্ট। একমাত্র ওরাই জানে ওদের কচি অন্তরের কোমল ব্যাথা!

আপনার মতামত জানান

পূর্ববর্তী খবর পরবর্তী খবর