দেশবাসীর সুরক্ষার সঙ্গে আপস নয়। করোনার ভ্যাকসিনের ডেডলাইন নিয়ে বিতর্কের মাঝেই ব্যাখ্যা দিল আইসিএমআর। এর আগে ১৫ অগাস্টের মধ্যে ভারতে তৈরি করোনার সম্ভাব্য প্রতিষেধক Covaxin বাজারে আনার নির্দেশ দেয় ICMR। এই ডেডলাইন কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

লক্ষ্য ১৫ অগাস্ট। ভারতের স্বাধীনতা দিবস। তারমধ্যে ভারতের বাজারে আনতে হবে দেশে তৈরি করোনার সম্ভাব্য প্রতিষেধক-কোভ্যাক্সিন। আইসিএমআরের দেওয়া ১৫ অগাস্টের লক্ষ্যমাত্র নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে,

- ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 

- ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর মানুষের শরীরে তার প্রভাব বুঝতে হয় 

-  হিউম্যান ট্রায়ালের প্রথম ধাপেই ন্যূনতম ৩ মাস সময় লেগে যায় 

- ৭ জুলাই থেকে হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করছে ভারত বায়োটেক 

-  ১৫ অগাস্টের মধ্যে ভ্যাকসিন বাজারে আনতে চায় ICMR 

- ICMR-এর ডেডলাইন অনুযায়ী ৩৯ দিন হাতে পাচ্ছে ভারত বায়োটেক 

- মাত্র ৩৯ দিনে করোনা ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল শেষ করা কি আদৌ সম্ভব? 


স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এই প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েই শনিবার ব্যাখ্যা দিল আইসিএমআর। তাদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মহামারি পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়েই দ্রুত ভ্যাকসিনের খোঁজ চলছে ৷ আন্তর্জাতিক মাপকাঠি মেনেই করোনার ভ্যাকসিনের খোঁজে ICMR ৷ তবে দেশবাসীর সুরক্ষা ও স্বার্থরক্ষাই ICMR-এর অগ্রাধিকার ৷


ডেডলাইন বিতর্কের মাঝেই অবশ্য কোভ্যাক্সিন নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ চালাচ্ছে ভারত বায়োটেক। ডেডলাইন ১৫ অগাস্ট। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে ভারতই প্রথম দেশ হিসেবে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের স্বীকৃতি পাবে। খুলে যাবে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দরজা। কিন্তু স্বীকৃতির দৌড়ে কোনওভাবেই যেন মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস না করা হয়। ICMR-এর কাছে এমনটাই আর্জি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

আপনার মতামত জানান

পূর্ববর্তী খবর পরবর্তী খবর