দ্য ল্যানসেটের দ্বারা সম্প্রতি প্রকাশ করা একটি রিপোর্টে জানানো হয় ভিটামিন ডি এবং করোনাভাইরাসের মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের মতে এই ভিটামিন D সাহায্য করছে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। সূর্যালোকের ত্বক উন্মুক্ত হলে যে ভিটামিন D তৈরি হয় তাই আমাদের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করছে।



করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে সারা পৃথিবীর মানুষ এখন ক্লান্ত। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষকরা দিনরাত এক করে পরিশ্রম করে চলেছেন এই ভাইরাসের প্রতিষেধক অবিস্কারে। এই সময় সাইটোকাইন স্টর্মের বিষয়টিও শোনা যাচ্ছে। এটা অনেক জটিল করোনা ভাইরাস রোগীদের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। SARS ও MERS-র সঙ্গে এর সামঞ্জস্য রয়েছে। এই তিনটি রোগই করোনা ভাইরাস দ্বারা হয়ে থাকে। এক কথায় সাইটোকাইন স্টর্ম মানুষের মধ্যে রোগকে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা অর্থাৎ রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। হাওয়ার্ড হিউজস মেডিক্যাল ইন্সটিটিউটের অন্য একটা গবেষণা অনুযায়ী, করোনা ভাইরাসের লক্ষণ অনেকটাই কমে যেতে পারে যদি সাইটোকাইন স্টর্ম আটকানো যায়।


কোভিড 19 রোগীদের ক্ষেত্রে বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে যদি ভিটামিন D - র অভাব পড়ে যায়। মূলত করোনাভাইরাস মানুষের রক্তের উপর প্রভাব বিস্তার করে। যদি দেহে শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ কম থাকে তবে প্রচুর পরিমাণ সাইটোকাইন স্টর্ম রক্তের মধ্যে মুক্ত করতে শুরু করে। যা কোভিড 19 রোগীদের ক্ষেত্রে মারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়।



ল্যানসেটের প্রকাশিত স্টাডি অনুযায়ী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার নিয়ে গবেষণা করার সময় মানুষের উপর ভিটামিন D-এর প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ভিটামিন D দুই ভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রাথমিক ভাবে ভিটামিন D অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল পেপটাইডস শ্বাসযন্ত্রকে আক্রমণ করে এবং দ্বিতীয়ত ভিটামিন D সার্স কোভ ২ -র সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারে। এটি বিজ্ঞানসম্মত ভাবেও প্রমাণিত। SARS-CoV-2-কে নিয়ন্ত্রণ করে প্রোটিনের সঙ্গে হুকআপ করে। যাতে মানুষের শরীরে ভাইরাসের প্রবেশের পথে বাঁধা তৈরি করে।

আপনার মতামত জানান

পূর্ববর্তী খবর পরবর্তী খবর